Breaking News
Home / শিক্ষাঙ্গন / নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচার করতে হবে: উপাচার্য

নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচার করতে হবে: উপাচার্য

নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন
বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচার করতে হবে: উপাচার্য

Jatiya_Kabi_Kazi_Nazrul_Islam_University_Logo

(নজরুল বিশ^বিদ্যালয়, ত্রিশাল): পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নারকীয়ভাবে হত্যাকাÐের সঙ্গে যে দেশি বিদেশি চক্রান্তকারীরা ছিল তাদেরকে অতিসত্বর বিচারের মুখোমুখি করার জোরালো দাবি তুলেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।

15 -1
তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীদের জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকার ধীরে ধীরে বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। তাদের অনেকের শাস্তি হয়েছে, অনেকে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। আমরা আশাকরি তারা ধরা পড়বে। বাংলাদেশে তাদের ফেরত আনা হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন শুধু তাদের বিচারের আওতায় আনলে হবে না; যারা চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেই চক্রান্তকারীদের আজকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজন হলে মরণোত্তর বিচার করতে হবে।’

15 -3
নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, যদি সেটি না করা হয় তাহলে চক্রান্তের রাজনীতি থামানো যাবে না। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র সে ষড়যন্ত্র থামানো যাবে না। একারণে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে যে চক্রান্ত হয়েছিল সেই চক্রান্তকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন ব্যক্তি মাত্র নন। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে আদর্শ, বঙ্গবন্ধু মানে ধ্রæব তারকা, বঙ্গবন্ধু মানে এমন এক বাংলাদেশ যে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড়িয়ে। তিনি আজীবন বাঙালির জন্য সংগ্রাম করেছেন, বাঙালির আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। এই মানুষটিকে হত্যার মধ্যদিয়ে একাত্তর সালের পরাজিত শক্তি ভেবেছিলো যে একাত্তর সনের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া বোধকরি সম্ভব। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। হত্যা করবার আগে তারা চক্রান্ত করেছিল। চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিল সামরিক বাহিনীর কিছু লোক, বেসামরিক বাহিনীর লোক, আধা সামরিক বাহিনীর কিছু লোক। সুদীর্ঘ চক্রান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুকে তারা হত্যা করেছিল। তাঁর স্ত্রী, শিশু সন্তান রাসেলসহ আরও অনেককেই তারা হত্যা করে। কিন্তু পচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যে সামরিক শাসকের পত্তন ঘটেছিল বাংলায় সেই সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবার জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও রক্তের উত্তরাধিকারী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন। তিনি ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বাঙালির ঝান্ডা তুলে ধরলেন এবং বাঙালির সামনে পথ দেখালেন। বঙালির গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরু হলো। সেই অভিযাত্রায় ধীরে ধীরে বাঙালি আজকে উন্নত বিশ্বের দোঁড়গোরায় গিয়ে পৌঁছানোর প্রতিজ্ঞা নিয়েছে।

15 -2
এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করা হয়। সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের সাথে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ করা হয়। এরপরে একটি শোক পদযাত্রা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ^বিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য’-এ গিয়ে শেষ হয়। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে সেখানে ভাস্কর্যের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। পরে নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হালিম, প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিমসহ অন্যরা।
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু নীল দল, কর্মকর্তা পরিষদ, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন (গ্রেড ১৭-২০), বিভিন্ন বিভাগ, হল প্রশাসন, কবি নজরুল বিশ^বিদ্যালয় স্কুল, আইকিউএসি, পরিবহন পুল, নজরুল বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাবসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিকেলে বিশ^বিদ্যালয়ের জয়ধ্বনি মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার,  বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম হাওলাদার,সদস্য সচিব নুসরাত শারমিন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, বঙ্গবন্ধু-নীলদলের সাধারণ সম্পাদক ড. সেলিম আল মামুনসহ অন্যরা।
দিবসটিকে কেন্দ্র করে বাদ যোহরে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা। এছাড়া শোক দিবস উপলক্ষ্যে জয়ধ্বনি মঞ্চে আলোচনা সভা ও সভা শেষে ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে।

তথ্য কণিকা তৌফিক আহমেদ বিপ্লব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Scroll To Top