Breaking News
Home / জেলা শহর সংবাদ / ভারপ্রাপ্ত এমডি’র দুর্নীতির কারণে ডুবতে বসেছে পিডিবিএফ : আন্দোলন থামাতে ৭৫ কর্মিকে সতর্কিকরণ চিঠি

ভারপ্রাপ্ত এমডি’র দুর্নীতির কারণে ডুবতে বসেছে পিডিবিএফ : আন্দোলন থামাতে ৭৫ কর্মিকে সতর্কিকরণ চিঠি

পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন-পিডিবিএফ’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দক্ষিণাঞ্চলের তিন শতাধিক কর্মি খুলনায় আন্দোলন করছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব ও এ মন্ত্রণালয়ের অধীন পিডিবিএফ’র ভারপ্রাপ্ত এমডি খুলনা সফরকালে তারা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। কথা বলেন সচিব ও ভারপ্রাপ্ত এমডি’র সাথে। নতুন প্রকল্পে তাদেরকে কাজ দেয়া, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকুরিচ্যুৎদের পুনর্বহাল করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। কিন্তু ঢাকা ফিরে তারা আন্দোলন থামাতে ৭৫ কর্মিকে সতর্কিকরণ চিঠি দিয়েছেন।
বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনরত কর্মিদের মুখপাত্র বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ভাপ্রাপ্ত সোলার কর্মকর্তা সুমন হোসেন জানান, পিডিবিএফ’র ভারপ্রাপ্ত এমডি মদন মোহন সাহার অদক্ষতা, অযোগ্যতার ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সোলার প্রকল্পের ২৮৫ জন কর্মি ‘চাকুরি আছে বেতন নেই’ অবস্থায় রয়েছে। বেতন বন্ধ রয়েছে ৭ মাসের। নানা অজুহাতে কর্মি ছাটাই করছেন তিনি। আইন্রে আশ্রয় নিলে আরও হয়রানী করা হয়। কয়েকজন উচ্চ আদালত থেকে রায় পেলেও তাদেরকে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। বহিরাগতদের নিয়ে অফিস পরিচালনা করেন। সেই সাথে তিনি প্রতিষ্ঠানের ৫টি গাড়ি ১ একজন অতিরিক্ত ড্রাইভার মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন ৫ জনকে ব্যবহার করতে দিয়ে তাদেরকে ম্যানেজ করে চলেন। এ সব বিষয়গুলো খুলনা সফরকালে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাফরূহা সুলতানা ও ভারপ্রাপ্ত এমডি মদন মোহন সাহার কাছে গত ২৭ ডিসেম্বর খুলনা সার্কিট হাউসে তুলে ধরা হয়। এ সময় বকেয়া বেতন পরিশোধ, চাকুরিচ্যুৎদের পুনর্বহাল ও সোলার কর্মিদের কাজ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। কিন্ত ঢাকা ফিরে ১০ ডিসেম্বর ব্যাকডেটে ৭৫ কর্মিকে কেন চাকুরি থেকে সরানো হবে মর্মে সতর্কিকরণ চিঠি দেয়। কর্মিরা মনে করেন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এ চিঠি দেয়া হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র ঋণের আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ চাকুরিচ্যুৎ বরিশালের ঝর্ণা ও কালিয়ার নিশীতকে উৎকোচের বিনিময় পুনর্বহাল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সচিবের কাছে মদন মোহনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে টিআর-কাবিখা প্রকল্প থেকে ৫ শতাংশ কমিশন খাত দেখিয়ে টাকা সরানো হয়। যা খুলনার ডুমুরিয়ার সোনালী ব্যাংক হিসাব নং ২৭১১০০১০১২৮৩৭, টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সোনালী ব্যাংক হিসাব নং ৬০১০৩৩৩০০৫১৫২ ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর সোনালী ব্যাংক হিসাব নং ৩৭১৩০০১০১৪৮০৬’র মাধ্যমে ব্যাংক স্টেটমেনে বিষয়টি ধরা পড়ে এবং দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সোলার কর্মকর্তা রাশেদুল ও ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুরে মিরাজুল ইসলামের নামে প্রকল্পের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এছাড়া মামলার পরিচালনার নামে ৪০ লাখ টাকা উর্ধ্বতন সহকারী পরিচালক আব্দুল হকের নামে অগ্রিম উত্তোলন করে আত্মসাৎ, বেকারদের কাজ না দিয়ে মোয়াদ উত্তীর্ণ অপেক্ষেয়মান তালিকা থেকে ৩৮ জনকে নিয়োগ। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালককে নিয়োগ প্রদানের বিষয় বলা হয়। মদন মোহনের দায়িত্ব নেয়ার ১ বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তিনি এ ব্যাপারে খোজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের ২৯ তম বৈঠকে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার নিয়োগকে অবৈধ ও গ্রহণ করা বেতন ফেরত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক সাহায্যপুস্ট অডিট অধিদপ্তর ও পিডিবিএফ’র সমন্বয়ে তৃপক্ষীয় বৈঠক এবং ঘটনা তদন্তে যুগ্ম সচিবের নেতুত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে দিয়ে তিনি তার পক্ষে রিপোর্ট করানোর চেস্টা করছেন বলে জানা গেছে। কাজেই বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই পদে কর্মরত থাকা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত এমডি মদন মোহন সাহা গত ২৭ ডিসেম্বর খুলনা সফরকালে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাকৃতিক দুূর্যোাগের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সোলার প্রকল্পে অনিয়ম হওয়ার ব্যাপারে তদন্তের আশ্বাস দেন। সেই সাথে নিজের নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হলেই বিষয়টি নিস্পত্তি করা সম্ভব হবে। নতুন প্রকল্প না থাকায় কর্মিদের কাজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে রেলওয়ে এবং কৃষি সেক্টরে শিগগির কাজ পাওয়া যাবে। সেখানে সোলার প্রকল্পের কর্মিদের কাজে লাগানো হবে।
##

তথ্য কণিকা T A Biplob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Scroll To Top